বই রিভিউঃ ‘বাদশাহ নামদার’ আর ডাউনলোড

ইতিহাস কাউকে টানে, কাউকে আবার টানে না। ইতিহাসের প্রতি সবসময় একটা প্রবল আগ্রহ ছিল এবং এখনও আছে। যেহেতু বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি সুতরাং আমার দেশের এবং পার্শ্ববর্তী দেশের ইতিহাস জানার আগ্রহই বেশী আমার। মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সবসময় আমাকে একটু বেশীই টানে। ইতিহাসের বিভিন্ন বই পড়ার ক্ষেত্রে আমার একটা সমস্যা হল যেহেতু বইগুলো সাধারনত বর্ণনামূলক হয়ে থাকে তাই মাঝে মাঝে একটু বিরক্তভাব এসে যায়। কিন্তু ইতিহাসকে যদি একটি উপন্যাসের মলাটের ভিতরে বন্দী করা যায় সেটা হয় সোনায় সোহাগা। আর ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখার ক্ষেত্রে আমাদের সময়ের সেরা বাঙ্গালী লেখক হুমায়ূন আহমেদের চেয়ে উত্তম আর কেউ হতে পারেন বলে আমি মনে করি না।

-1-638

‘বাদশাহ নামদার’ উপন্যাসের কাহিনী মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের পুত্র নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ূন মীর্জাকে নিয়ে রচিত। কাহিনী শুরু হয় ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে। বাদশাহ বাবর আদরের পুত্র হুমায়ুনকে নিয়ে বড্ড চিন্তিত। পুত্র হুমায়ুন সাম্রাজ্য নিয়ে পুরাপুরি উদাসীন। সে ব্যস্ত থাকে তাঁর রংতুলি ও পদ্য নিয়ে। প্রকৃতির মাঝেই তাঁর প্রকৃত সুখ। ওই সময়কালেই একবার পুত্র হুমায়ূন মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায়। বাদশাহ বাবর নিজের প্রানের বিনিময়ে খোদার কাছে পুত্রের প্রাণ ভিক্ষা চাইলেন। পুত্রের কালান্তক ব্যাধি শরীরে ধারন করে পঞ্চাশ বছর বয়সে সম্রাটের মৃত্যু হয়। তার তিন দিন পর হুমায়ূন মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আসীন হন।

সম্রাট হুমায়ূন রাজকর্মে অত মনোযোগী ছিলেন না। তিনি ডুবে থাকতেন নিজের জগতে। এই সুযোগে তাঁর ছোট ভাই কামরান মীর্জা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন। মুঘল সাম্রাজ্যের শত্রু শের খাঁ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খামখেয়ালী বাদশাহ সাম্রাজ্য রক্ষ্যায় সাথে পেলেন বিশ্বস্ত ও সাহসী সেনাপতি বৈরাম খাঁকে। সাম্রাজ্য দখল ও রক্ষ্যার এই অসামান্য উপাখ্যান চলতেই থাকল।

এই কাহিনীতে চরিত্র অসংখ্য কিন্তু ভাবছেন মনে রাখতে কস্ট হবে। একদমই হবে না। কারন, লেখক এইসব ঐতিহাসিক চরিত্রকে কাগজের পাতায় পুনর্জন্ম দিয়েছেন তাঁর চিরাচরিত জাদুর ছোঁয়ায়। আর ভুলেও এই বই রাত ১১/১২ টায় পড়া শুরু করবেন না, কারন আপনি এই বই ছেড়ে শুতেই পারবেন না এবং পড়া শেষ হলেও ঘুম আসবেনা। মাথায় শুধুই চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়াবে ।

বাদশাহ নামদার হুমায়ূন আহমেদের অসামান্য সৃষ্টিগুলোর অন্যতম। এই ধরনের ঐতিহাসিক উপন্যাস উনি উনার জীবনযাত্রার শেষ প্রান্তে এসে লেখবেন তা হয়ত অনেকেই ভাবতে পারেনি। মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে যেকোনো ধরনের নন-ফিকশন লেখা হয়ত সহজ। কিন্তু মুঘল সাম্রাজ্যের কোন এক সম্রাটকে নিয়ে এই স্তরের উপন্যাস লিখা আমার মতে কঠিন এক কাজ, যেহেতূ এর ব্যাপ্তি অনেক বিশাল। তারপরও এই অসামান্য কাজ সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র উনার নাম হুমায়ূন আহমেদ বলেই, যার স্থান পাঠকের হৃদয়ে।

বাদশাহ নামদার থেকে নেয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় কয়েকটি পঙক্তি-

“অশ্ব অশ্বারোহীর বন্ধু নয় ।
যেমন বন্ধু নয় বায়ু, মেঘমালার ।
বন্ধু হবে এমন যাদের সঙ্গে কখনো দেখা হবে না ।
দু’জনেই থাকবে দু’জনের কাছে অদৃশ্য ।
দৃশ্যমান থাকবে তাঁদের ভালোবাসা ।”

এক নজরেঃ
বইয়ের নামঃ বাদশাহ নামদার
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ

 

Download Link