পৌষের প্রায় শেষ। যদিও শীতের প্রকোপ নেই বললেই চলে, তবু শীত শীত ভাব, হালকা কুয়াশা, নরম নরম রোদ-সব মিলিয়ে একটা চমৎকার আমেজ তৈরি হয় উপভোগ করার মতো। সেই সঙ্গে যদি যোগ করা যায় পিঠা আর খেজুরের রস, তো কথাই নেই।

জমে গেল আর কি!

শহরে চাল গুঁড়ো করা এখন আর কোনো সমস্যাই নয়। বাড়িতে বসে গ্রাইন্ডারে যদি না-ও সম্ভব হয়, যেকোনো দোকান থেকে প্যাকেটের চালের আটা এনে পিঠা তৈরি করে নিতে অসুবিধা নেই। সরঞ্জামও আজকাল বাজারে পাওয়া যায়। হয়তো গ্যাসের চুলার পিঠা অত সুস্বাদু হবে না, তার পরও রস+পিঠার আনন্দ উপভোগ করতে বাধা নেই।

বাধা নেই তো বললাম, তবে রস কোথায় পাবেন?

পাটালিগুড় কিনে দুধে ভিজালে রস হবে বটে, তবে সে রসে মন না ভরারই কথা। সে ক্ষেত্রে চলে যান ঝিটকা কিংবা সাভারের আশুলিয়া নয়তো পুবাইল। রস পেয়ে যাবেন নিশ্চয়।

তাতেও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে?

তাহলে নতুন রস সরবরাহ লাইন একটি খোলা হয়েছে আপনাদের জন্য। বারমেসে রস সরবরাহ নিশ্চিত হবে। পিঠার সঙ্গে খেতে না পারলেও এ রসে ভিজাতে পারবেন সারা সপ্তাহের সব খটমটে, হিজিবিজি, দাঁতভাঙা খবরাখবর আর টেলিভিশন টক শো।

কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন এসব যন্ত্রণা থেকে।

বুঝতেই পারছেন, কোন রসের কথা বলার চেষ্টা করছি। জি, প্রথম আলোর রস+আলো।

আমি এ রসের ঝাঁঝটা বাড়ানোর একটু চেষ্টা করি না কেন।

প্রথমে সাংবাদিকতার সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করি-

১· সাংবাদিকতা হলো দুই টাকা দিয়ে সাদা কাগজ কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করা।

২· সাংবাদিকতায় সফল হতে হলে পাঠকদের খেপিয়ে দেবেন, দেখবেন পরদিন আপনাদের পত্রিকার অর্ধেকই পাঠকদের লেখায় পূর্ণ হয়ে যাবে।

৩· চিকিৎসকেরা তাঁদের ভুলকে কবরে পাঠান, উকিলেরা তাঁদের ভুলগুলোকে চড়ান ফাঁসিকাষ্ঠে, আর সাংবাদিকেরা তাঁদের সব ভুলকে চাপান পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায়।

সাংবাদিক ভাইবোনেরা কি ক্ষিপ্ত হচ্ছেন? না, তাহলে তো আর রস হবে না, আমি পত্রপত্রিকায় প্রকৌশলীদের নিয়েও এ ধরনের কতই না রস করেছি, সে শুধু রসই, কখনো একটু হালকা, কখনো-সখনো বা একটু ভারী বা ঘন। স্বাদের হেরফের হলেও দুটোই সুস্বাদু। এর বেশি কিছু নয়। আমার কলম তো প্রেসের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে, নাকি?

অবশ্য প্রেসের স্বাধীনতা বলতে তো বোঝায় শুধু পত্রিকা-মালিকের স্বাধীনতা। সে ক্ষেত্রে আমার বলার নেই কিছুই।

দুটো ছোট্ট চুটকি বলে আজকের রসযন্ত্রণার ইতি টানি।

এক ভদ্রলোক পত্রিকা অফিসে ফোন করে জানতে চান-‘ভাই, আমি পত্রিকার প্রথম পাতায় নাম ছাপাতে চাই, সহজ উপায় বাতলাতে পারেন?’ সম্পাদক বললেন, ‘হঁ্যা পারি, আমাদের পত্রিকাটা হাতে নিন, নিয়েছেন? ঠিক আছে, এবার এটা পড়তে পড়তে রাস্তা পার হোন-’ কিছুক্ষণ নীরব, তারপর ক্যাঁ-চ করে আওয়াজ পেয়ে ফোনটা রেখে সম্পাদক বললেন, ‘এই তো হয়ে গেছে।’

এক ভদ্রলোক পত্রিকায় তাঁর মৃত্যুসংবাদ দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে পত্রিকা অফিসে ফোন করেন-‘পত্রিকায় আজ সকালে আমার যে মৃত্যুসংবাদ বেরিয়েছে আমি সেই ব্যাপারে ফোন করেছি।’

সম্পাদকের উত্তর, ‘কোথা থেকে বলছেন? দোজখ না বেহেশত?’
সর্বশেষ যন্ত্রণাটা দিই এবার।

এক পত্রিকার সম্পাদক গর্ব করে বক্তৃতা দিচ্ছেন-‘আমার পত্রিকাই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর ছেপেছিল, আবার দেখুন, আমার পত্রিকাই দুদিন পর সর্বপ্রথম জানিয়েছিল যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরটা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

আসলে সবই ভিত্তিহীন। রসের খবরের হয়তো কোনো ভিতই থাকে না। আসলে কি তা-ই, নাকি কঠিন খবরেরও প্রায়ই পাওয়া যায় না ভিত্তির হদিস?